WordPress Website Speed Faster Tips and Tricks

ওয়ার্ডপ্রেস হলো বর্তমান বিশ্বের সবচেয় জনপ্রিয় CMS (Content Management System) যেটা ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই ডায়নামিক, রেস্পনসিভ, কর্পোরেট, ও বিজনেস ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন । এই প্লাটফর্মটি খুব সহজেই আপনার হোস্টিং একাউন্টে সাথে ইন্সটল করে একটি সুন্দর ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। যারা ইতমধ্যে ব্লগিং শুরু করেছেন কিংবা নিজের একটা-দুইটা ওয়েবসাইট আছে, বা ক্লাইন্টের ওয়েবসাইট ডিজাইন করেন তাদের কাছে ওয়ার্ডপ্রেস খুবই পরিচিত একটা প্লাটফর্ম । আবার ওয়ার্ডপ্রেস CMS ব্যবহার করে সাইট বানিয়ে বিভিন্ন E-Commerce সাইটের Affiliate marketing করছেন এরকম মানুষের সংখ্যা বা ফ্রিলান্সার দের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেই চলছে।

আপনি হয়তো ডিজাইন দিয়ে বা ডেভোলপার দিয়ে আপনার সখের ওয়েবসাইট টি তৈরী করেছেন । বা আপনার কোম্পানীর জন্য সাইট তৈরী করেছেন । কিন্তু যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে যান, তখন খুব ধীর গতিতে আপনার ওয়েসাইট টি প্রদর্শন হচ্ছে । এটার কারনে অনেকে আপনার সাইট টি ব্যবহার করতে গিয়ে আবার ফিরে আসসে লোডিং স্পিড না থাকার কারনে । বা লোড নিলেও ১০-১৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে থাকে । এই সমস্থ সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমার এই ব্লগটি লিখা । এই টিপস্ গুলো ফলো করলে আশাকরি আপনার ওয়েবসাইটে লোডিং স্পিড ২-৩ সেকেন্ড সময়ে প্রদর্শন হবে আশাকরা যায় ।

ওয়েবসাইট স্পিড বাড়ানোর কতিপয় কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে ।

  1. সেরা ব্রান্ডের হোষ্টিং সার্ভার ব্যবহার করা ।
  2. প্রিমিয়াম থিম বা সেরা প্রতিষ্ঠানের থিম ব্যবহার করা ।
  3. অপ্রয়োজনীয় প্লাগিন ব্যবহার না করা  ।
  4. নিয়মিত ইমেজ অপ্টিমাইজ করা ।
  5. WordPress Cache প্লাগিন এবং CDN ব্যবহার করা ।
  6. নিয়মিত ডাটাবেস অপ্টিমাইজড্ করা ।
  7. সবসময় থিম/প্লাগিন এর আপডেট ভার্ষন ব্যবহার করা ।

উপরের এই ৭ টি বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারলে আপনার ওয়েবসাইট এর পারফমেন্স ভাল পাবেন । আমি কিভাবে করবেন সেই বিষয়গুলো নিয়ে আপনাদের সাথে শেয়ার করব ।

website-speed-test-tools

আপনার ওয়েবসাইটের বর্তমান অবস্থা পরিক্ষা করে নিন ।

 

সেরা ব্রান্ডের হোষ্টিং সার্ভার ব্যবহার করাঃ 

ওয়েবসাইটের পারফমেন্স এবং লোডিং স্পিড অনেকটা নির্ভর করে আপনার ব্যবহৃত হোষ্টিং এর উপর । আপনি কি মানের হোষ্টিং ব্যবহার করছেন, কোন হোষ্টিং প্যাকেজটা ভাল, সেই বিষয়ে না জেনে কখনোই হোষ্টিং প্যাক কিনবেন না । সাধারনত হোষ্টিং প্যাকেজ এর দাম এর উপরে নির্ভর করে, নির্দিষ্ট ব্রান্ডউইডথ্ । ওয়ার্ডপ্রেস হোষ্টিং, শেয়ার হোষ্টিং, এবং ডেডিকেটেড হোষ্টিং গুলোর সাভিংস আলাদা আলাদা রকমের হয়ে থাকে । এবং ট্রাফিক ব্রান্ডউইডথ্ ও নির্ভর করে থাকে । আপনার হোষ্টিং কি এটাও ডিপেন্ড করে, একমাথে কতগুলো ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে ঢুকলে সাপোর্ট দিতে পারবে । এবং ভাল মানের হোষ্টিং প্লান এর  সাথে নেমসার্ভার ও ডিপেন্ড করে থাকে ।

আপনি আরও জানতে গুগলে সার্চ করে দেখতে পারে “ ওয়ার্ল্ডএর সেরা হোষ্টিং কোম্পানীগুলো কী কী ?

best website hosting

আমি কয়েকটি ভাল হোষ্টিং কোম্পানীর নাম আপনাদের শেয়ার করছি ।

  •  Godaddy Domain and Hosting 
  •  BlueHost 
  •  Siteground 
  •  Hostgator
  •  I page 
  •  Namecheap
  • Dream Host

প্রিমিয়াম থিম বা সেরা প্রতিষ্ঠানের থিম ব্যবহার করাঃ

আমরা সাধারনত আমাদের ওয়েবসাইট ডিজাইন করার সময় ডিজাইনকে বেশি প্রাধান্য দিতে গিয়ে অনেক ইমেজ এবং ভিডিও স্লাইডার, গ্রিড, সেকশর বসিয়ে থাকি । এবং উক্ত ডিজাইনে CSS Monify, Style.Css এর ত্রুটি হয়ে যায় । এবং ভিজিটর লোডিং স্পিড পায়না । পেজ খুলতেঅনেকটা সময় নিয়ে থাকে । সেই কারনে আপনার যে সমস্থ কোম্পানী ওয়ার্ডপ্রেস থিম ডেভোলপ করে থাকে, তাদের কাছ থেকে থিম কিনে নিয়ে ডেভোলপ করতে পারেন । আপনার চাইলে themeforest.net   থেকে থিম নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন । কারন ওখানে ওয়াল্ডের সব বড় বড় ডেভোলপাররা থিম আপলোড দিয়ে থাকে । এবং ঐ মার্কেটপ্লেসটি সকল কোড যাচাই বাছাই করার পরই তাদের মার্কেট প্লেসে আপলোড দেয়ার অনুমতি দেয়। তাই আপনি নিঃসন্দেহে সেখান থেকে থিম কিনে আপনার সাইটে ব্যবহার করতে পারেন । এতে করে ভাল স্পিড পাবেন ।

শুরুর  দিয়ে যদি আপনার মনে হয়, ডোমেইন হোষ্টিং এবং SSL কিনতে অনেক টাকা খরচ হয়েগেছে, আপনি আর এই মুহুর্তে থিম কিনতে চাচ্ছেন না, বা অত টাকা খরচ করতে চাচ্ছেন না । তাহলে আমি বলব, আপনার wordpress.org  থেকে ফ্রিতে ভালভাল থিম ডাউনলোড করতে পারবেন । এবং এই থিমগুলো আপনার ওয়েবসাইটে ব্যবহার করলে কোনরকম ঝামেলা হবেনা । কারন এই থিমগুলো wordpress Team দ্বারা পরিক্ষিত, এতে কোন মিসিং কোড পাবেন না । এবং পারফমেন্স এর দিক থেকে অনেকটা ভাল ।

আপনারা চাইলে আমার ফ্রী থিমের একটা ব্লগ পোষ্ট করা আছে পড়ে দেখে আসতে পারেন । ওয়ার্ডপ্রেস এর সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্রী থিমগুলোর তালিকা এই সমস্থ ফ্রী থিমে যদিও প্রফেশনাল মানের সুবিধা পাবেন না । তারপরেও যা আছে কমনেই ।

আপনি এই থিমগুলোর সাথে কিছু প্লাগিন ব্যবহার করেও প্রফেশনাল মানের থিমের মত সেম ডেভোলপ করতে পারেন । এজন্য আপনাদের কিছু প্লাগিন লাগবে । আমি প্লাগিন নিয়েও অনেক ব্লগ পোষ্ট করেছি এর আগে । আপনারা দেখে আসতে পারেন । ওয়ার্ডপ্রেস এর ফ্রী সেরা ১০ টি প্লাগিন  এই প্লাগিন গুলো ব্যবহার করলে এবং এগুলো দিয়েই আপনি আপনার ওয়েবসাইট কে প্রফেশনাল আউটলুক দেখাতে পারবেন ।

অপ্রয়োজনীয় প্লাগিন ব্যবহার না করাঃ

আমাদের সাইটে ডিফল্ট কিছু প্লাগিন দেয়া থাকতে পারে, এবং আমাদের অজান্তেই কিছু প্লাগিন যদি সাইটে এড করা হয়ে থাকে তাহলে সেগুলো inactive করে রাখুন । কারন অযথা প্লাগিন ব্যবহার করে সাইটের লোডিং স্পিড ভাল পাওয়া যাবেনা । বরং অন্যান্য সার্ভিস কে বাধা প্রদান করে । আপনারা হয়তো দেখেছেন, অনেক প্রতিষ্টান প্রিমিয়াম প্লাগিন ফ্রীতে দেয়, বা নাল ফাইল দেয়, বা অনেক ক্র্যাক সফ্টওয়্যার ফ্রীতে দিয়ে থাকে, আপনার কখনো ঐ সমস্থ প্লাগিন লোভে পরে, আপনার সাইটে ব্যবহার করবেন না । কারন এতে অনেক কোডিং মিসিং থাকে । ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ার আশংখা অনেক থাকে । ওয়েবসাইট হ্যাকিং প্রটেক্ট করা শিখতে আমার এই পোষ্টটি দেখে আসতে পারেন – ওয়ার্ডপ্রেস সিকিউরিটি এবং হ্যাকার প্রটেক্ট সিস্টেম আশাকরি আনপাদের ঐ বিষয় নিয়ে আর কোন দিধা থাকবেনা ।

cloudflare-wordpress

Name Server:

ওয়েবসাইট স্পিড বাড়ানোর আরও একটা দারুন উপায় । আপনারা আনপাদের ডোমেইন প্যানেল এ গিয়ে দেখবেন যে নেমসার্ভার দেয়া আছে তা পরিবর্তন করে Cloud fare এর নেমসার্ভার যদি ব্যবহার করেন, এবং এদের CDN ব্যবহার করেন, তাহলে আপনারা আপনাদের ওয়েবসাইটে ভাল পারফমেন্স পাবেন । আপনাদের ওয়েবসাইট কখনোই সার্ভার রেস্পনস্ Error দেখাবেনা । এজন্য আনপাকে প্রথমে ক্লাউড ফেয়ার এ আপনাকে ফ্রি একাউন্ট করতে হবে । এবং আপনার ডেমেইন নেমটি বসাতে হবে । তারপর একাট ইমেইল এর মাধ্যমে আপনাকে ডোমেইন অথরিটি ভেরিফাই করাতে হবে । তারপর ওদের দেয়া নেমসার্ভার আপনার ওয়েবসাইটে ডোমেইন সেটিংস অপশনে বসাতে হবে, বাস কাজ শেষ । আপনারা যাদের এই ব্যাপারটা বুঝতে সমস্যা তারা ইউটিউব ভিডিও ফলো করতে পারেন । ইউটিউবে এই বিষয় নিয়ে অনেক ভিডিও আছে ।

নিয়মিত ইমেজ অপ্টিমাইজ করাঃ

ইমেজ অপ্টিমাইজড্ একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয়, আর এই বিষয়ে যদি আপনি দক্ষ না হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি কখনো আনপার ওয়েবসাইটে স্পিড বাড়াতে পারবেন না । এবং SEO তে ভাল কাজ করতে পারবেন না । আপনার ওয়েবসাইট টি র‌্যাংকিং হারাবে । কি কি কারনে ওয়েবসাইটের র‌্যাংক হারিয়ে যায়  কারন প্রত্যেক টি কন্টেন্ট এ আপনারা ৩-৪ টা ইমেজ ব্যবহার করে থাকেন । এই এই ইমেজ গুলো যদি নিয়মিত অপ্টিমাইজ না হয়, তাহলে অনেক বড় ইফেক্ট পড়ে যাবে ওয়েবসাইটে । আমার ইমেজ অপ্টিমাইজ নিয়ে পরিপূর্ন একটা পোষ্ট করা আছে । আপনারা দেখে আসতে পারেন – ইমেজ অল্টার ট্যাগ ব্যবহার করার সঠিক নিয়ম  এই পোষ্টটি পড়লে আপনারা অনেক এক্সপার্ট হয়ে যাবেন ইমেজ অল্টার ট্যাগ নিয়ে ।

WordPress Cache প্লাগিন এবং CDN ব্যবহার করাঃ

ওয়ার্ডপ্রেস কেসি প্লাগিন এবং কিভাবে সেটাপ করবেন কোন কোন প্লাগিন ভাল কাজ করে এই ব্যাপরে আমি আগেই আপনাদের উদ্দেশ্যে লিখেছি । আপনারা চাইলে দেখ  আসতে পারেন । Best wordpress Cache Plugin (Free)

নিয়মিত ডাটাবেস আপডেট রাখাঃ

আপনারা অবশ্যই নিয়মিত এই কাজটি করে যাবেন । প্রতিদিন আপনার আপডেট পোষ্ট এর পাশাপাশি সাইটের ডাটাবেস পরিচর্যা, অপ্টিমাইজ করা, এবং নিয়মিত ওয়েবসাইটের ব্যাকআপ রাখা অনেকভাল কাজ ।

আপডেট সফ্টওয়্যার বা প্লাগিনঃ

হ্যা আপনারা অবশ্যই চেষ্টা করবেন আপনার সাইটে ব্যবহৃত সমস্থ প্লাগিন আপডেট ভার্ষন ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন । কারন আপডেট টুলসে নতুন নতুন ফিচার্ড এড হয় । এবং সেই ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ভার্ষন টি আপডেট করতে হবে, যখন নতুন আপডেট আসে । আপনি চাইলে ওয়ার্ডপ্রেস ভার্ষন অটো আপডেট সার্ভিস টি চালু রাখতে পারেন ।

এতক্ষন কষ্ট করে পড়ার জন্য আনপাদের জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ  । আবার লিখব নতুন কোন আপডেট নিয়ে । পোষ্টটি ভাল লাগলে কমেন্ট করে জানাবেন । আর কোন বিষয়ে টিপস্ ট্রিকস্ বা টুলস্ প্রয়োজন হলে কমেন্টে জানাবেন । আমি আপনাদের উদ্দেশ্যে ফ্রি ডাউনলোড করার জণ্য দিয়েদিব । আমার এই ব্লগ সম্পূর্ন  ফ্রীতে পরিচালনা করে থাকে । আমরা গ্রাহকের কাছে কোন অর্থ দাবী করিনা ।

ThemesAndPlugin

আমার জ্ঞানের কিছু অংশ আপনাদের মাঝে শেয়ার করে যদি আপনারা উপকৃত হন তাতেই আমার স্বার্থকতা । আমি মোঃ ইলিয়াস কাওছার- প্রযুক্তিকে অনেক বেশি ভালবাসি । তার চেয়ে বেশি ভালবাসি প্রযুক্তি সম্পর্কে নিজে বেশি বেশি জানতে” এবং আপনাদের মাঝে শেয়ার করতে । আপনাদের ভালবাসায় আমি নিয়মিত আপডেট পোষ্ট দিয়ে যাব । ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *